পাসপোর্ট সূচকে একধাপ উন্নতি বাংলাদেশের
বৈশ্বিক পাসপোর্ট শক্তিমত্তার তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৮২তম, যা ২০২৫ সালে এক ধাপ এগিয়ে ১৮১তম হয়েছে। আন্তর্জাতিক ট্যাক্স ও অভিবাসন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নোমাড ক্যাপিটালিস্টের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও পাসপোর্টের বৈশ্বিক সূচক প্রকাশ করেছে দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি। ভিসামুক্ত ভ্রমণ, করব্যবস্থা, বৈশ্বিক ধারণা, দ্বৈত নাগরিকত্বের সক্ষমতা এবং ব্যক্তি স্বাধীনতা—এই পাঁচ মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা নোমাডের সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৩৮।
বর্তমানে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে বিশ্বের ৫০ দেশে ভিসামুক্ত, অন অ্যারাইভাল ভিসা কিংবা ই-ভিসার মাধ্যমে ভ্রমণ করা যাবে।
নোমাডের হিসাবে বৈশ্বিক ধারণা সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৩০। যেসকল দেশের এই সূচকে স্কোর ৫০ এর নিচে তারা বিশ্বের কোনো দেশে ভ্রমণ করলে সেই দেশের মানুষ তাদেরকে ভালোভাবে গ্রহণ করেন না, আতিথেয়তার বদলে বিদ্বেষ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের স্কোর ৩০ হওয়ায় দেশের নাগরিকদের জন্য বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সুখকর হয় না বলে নোমাডের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
নোমাডের ব্যক্তিস্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের পাসপোর্টের স্কোর ১০, যা সর্বনিম্ন ব্যক্তি স্বাধীনতা হিসেবে ধরা হয়। ১০-৫০ সূচকের মধ্যে যাদের ব্যক্তি স্বাধীনতার স্কোর ১০-২০, তারা নাগরিক হিসাবে নূন্যতম স্বাধীনতা ভোগ করতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্ট
নোমাডের প্রতিবেদনে বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্ট হিসাবে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে আয়ারল্যান্ডের নাম। দেশটির পাসপোর্টের স্কোর ১০৯। এ দেশের পাসপোর্টধারীরা ১৭৬ দেশে ভিসামুক্ত বা অন অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করতে পারবেন।
পাসপোর্টে শক্তিমত্তায় যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সুইজারল্যান্ড এবং গ্রিস। এই দুই দেশের পাসপোর্টের স্কোর ১০৮.৫। এ দেশ দুটির পাসপোর্টধারীরা ১৭৫ দেশে ভিসামুক্ত বা অন অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করতে পারবেন।
শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় শীর্ষ চারে আছে পর্তুগাল এবং শীর্ষ পাঁচে আছে যৌথভাবে মাল্টা এবং ইতালি।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাসপোর্টের শক্তিমত্তার সূচকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে মালদ্বীপ। শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় দেশটির অবস্থান ১০৪। মালদ্বীপের স্কোর ৬৫.৫। এ দেশের পাসপোর্টধারীরা ১০১ দেশে ভিসামুক্ত বা অন অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করতে পারবেন।
এ অঞ্চলে সবচেয়ে দুর্বল পাসপোর্ট আফগানিস্তানের। নোমাডের তালিকায় বৈশ্বিক সূচকেও দেশটির পাসপোর্ট সবচেয়ে দুর্বল। সূচকে ১৯৯তম স্থানে আফগানিস্তানের স্কোর ২৭।
আফগানিস্তানের পরেই দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে দুর্বল পাসপোর্ট পাকিস্তানের। শক্তিশালী পাসপোর্টের সূচকে দেশটির র্যাংক ১৯৫, যা নোমাডের তালিকায় দুর্বল পাসপোর্টের শীর্ষ পাঁচ। পাসপোর্টে পাকিস্তানের স্কোর ৩২।
দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান এবং বাংলাদেশের পরে ১৮০তম স্থানে আছে নেপালের পাসপোর্ট। পাসপোর্টের শক্তিমত্তার সূচকে নেপালের স্কোর ৩৯.৫।
পাসপোর্টের শক্তিমত্তার সূচকে ভারতের অবস্থান ১৪৮ এবং স্কোর ৪৭ দশমিক ৫। এ দেশের পাসপোর্টধারীরা ৭৫ দেশে ভিসামুক্ত বা অন অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ করতে পারবেন।
দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরে ১৬৮তম অবস্থানে আছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির পাসপোর্টের স্কোর ৪৩.৫।
অন্যদিকে ভারত-শ্রীলঙ্কার থেকে এগিয়ে এ অঞ্চলে দ্বিতীয় শক্তিশালী পাসপোর্ট ভূটানের। পাসপোর্টের শক্তিমত্তার সূচকে ভূটানের অবস্থান ১৪০তম এবং স্কোর ৪৯।